ই-কমার্স জায়ান্টদের নজর বাংলাদেশে

ই-কমার্স জায়ান্টদের নজর বাংলাদেশে

ই-কমার্স জায়ান্টদের নজর বাংলাদেশে

মাসুদ রুমী:
২০১৮-১৯ অর্থবছরে লেনদেন প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আগের অর্থবছরে ছিল ১৬০০ কোটি টাকা
প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ শতাংশ দেশের যত লোক স্মার্টফোন ব্যবহার করে তার মাত্র ১১% অনলাইন কেনাকাটা করে আগামী ৩-৪ বছরে লেনদেন ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব
বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতে নজর পড়েছে বৈশ্বিক জায়ান্টদের। আলিবাবা, আমাজনসহ আরো কয়েকটি খ্যাতনামা কম্পানি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরাসরি ব্যবসা শুরু না করলেও দেশের ই-কমার্সের বাজার চীনের আলিবাবার দখলে। কারণ ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই মূলত তাদের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের প্রায় ৮৫ শতাংশই পণ্যই আলিবাবা থেকে কিনে বিক্রি করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনও। আর এই বাজারে এরই মধ্যে প্রবেশ করেছে ইউরোপের আরেকটি বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউভি। এ ছাড়া আলিবাবার প্রতিদ্বন্দ্বী টেন সেন্টও বাংলাদেশের বাজারে নজর দিয়েছে। দেশে দ্রুত ডিজিটাইজেশনে প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, প্রতিবছর ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কারণে বড় বড় বিদেশি কম্পানিগুলো বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারে প্রবেশে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিদেশি কম্পানিগুলোর আগ্রাসী কার্যক্রমে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিলীন হয়ে না যায়, তার জন্য নীতি সহায়তা চার দেশীয় উদ্যোক্তারা।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের ই-কমার্সের লেনদেন ছিল প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এর আগের বছরে এটির আকার ছিল এক হাজার ৬০০ কোটি। আংকটাডের দেওয়া হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ই-কমার্স খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৫ শতাংশ। অ্যালেক্সার তথ্য মতে, অনলাইন কেনাকাটায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ‘দারাজ ডটকম’। বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মধ্যে দারাজের অবস্থান ১২তম। এর পরই রয়েছে বহুজাতিক কম্পানি আমাজন। আমাজনের অবস্থান ১৬তম। এ ছাড়া ৩১তম অবস্থানে রয়েছে বিক্রয়ডটকম। চালডালডটকম, অথবাডটকম, প্রিয়শপ, আজকেরডিল, স্বপ্ন, মীনাক্লিক, ইভ্যালি, বাগডুম, পিকাবো এবং রকমারি রয়েছে অ্যালেক্সা তালিকায় ওপরের দিকে। প্রতিদিন কয়েক লাখ ক্রেতা এসব অনলাইন সাইটে বিভিন্ন পণ্যেও খোঁজ করে।
এরই মধ্যে দেশের শীর্ষ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ কিনে নিয়েছে আলিবাবা। এ ছাড়া মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশেরও সিংহভাগ মালিকানা কিনেছে আলিবাবা। এ ছাড়া আরো কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করতে পারে চীনের প্রতিষ্ঠানটি। আবার ভারতীয় ফ্লিপকার্টসহ আরো কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। যদিও দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও ভালো অবস্থানে আছে। বিদেশি কম্পানিগুলোর অনেক বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করার সক্ষমতা থাকে। তারা অনেক সময় কিছু অনৈতিক পন্থায় ব্যবসা করে বাজার দখলের চেষ্টা করে। তাতে দেশীয় উদ্যোক্তারা হুমকির মুখে পড়ে। ভারতে প্রথম দিকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা ই-কমার্স মার্কেট তৈরি করলেও তা যখন একটু বড় হয়েছে তখন বিদেশি কম্পানি, যেমন—আমাজন, ওয়ালমার্টের মতো প্রতিষ্ঠান এসে অনেক স্থানীয় কম্পানিকে তারা মার্কেট থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশেও এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না দেশীয় উদ্যোক্তারা।

জানতে চাইলে দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকেরডিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার একটা ই-কমার্স নীতিমালা করেছে। এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একটা ভালো জিনিস আছে যে কোনো বিদেশি কম্পানি কখনো ৫৯ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যালস, তৈরি পোশাক খাতেও বিদেশি কম্পানিগুলোর ব্যাপারে একধরনের নিয়ন্ত্রণ আছে। এটা ই-কমার্সেও জোরালোভাবে থাকা উচিত। অন্যথায় এখানে টেলিকমের মতো অবস্থা হবে, যেখানে পুরাটাই বিদেশি নিয়ন্ত্রণে।’

তিনি জানান, ভারতে গত পাঁচ বছরে অনলাইন কেনাকাটা প্রতিবছর ৫০-১০০% হারে বাড়ছে। ভারতে এখন মোট জনসংখ্যার ১০%-এর মতো লোক বছরে একবার হলেও অনলাইনে কিছু না কিছু কেনে। এমনকি ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও চীনেও ই-কমার্স ব্যবসা ভালো অবস্থায় আছে। চীনে ৫০%-এর জনগণ নিয়মিত অনলাইনে কেনাকাটা করে। ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও ২০-২৫%-এর মতো জনগোষ্ঠী অনলাইনে কেনাকাটা করে। সেই হিসেবে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের একটা হিসেবে বাংলাদেশে এখনো মোট জনসংখ্যার ১%-এর কম লোক অনলাইনে কেনাকাটা করে।
এমনকি সাম্প্রতিক একটি জরিপ অনুযায়ী আমাদের দেশের যতজন লোক স্মার্টফোন ব্যবহার করে তার মাত্র ১১% অনলাইন কেনাকাটা করে (ভারতে যেটি ৪০%, ইন্দোনেশিয়ায় ৩০% আর চীনে ৮০%)। কাজেই বাংলাদেশে ই-কমার্সেও মাঠ প্রায় খালি পড়ে আছে। আগামী ৩-৪ বছরে লেনদেন ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। এ জন্য ইন্টারনেট ও ডেলিভারি সিস্টেমের সমস্যা সমাধান করতে হবে। এখন যে মাত্র ১৫ লাখের মতো অনলাইন ক্রেতা আছে, সেটি এক থেকে দেড় কোটিতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সব মিলিয়ে দেশের ই-কমার্স মার্কেটের অবস্থা এই।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশ সূত্র জানায়, ই-কমার্স খাতে গত কয়েক বছরে প্রায় ২০ হাজার দেশীয় উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। কেউ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করছে। কেউ ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করছে। এই উদ্যোক্তারা প্রচুর কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

বিদেশে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ নেটওয়ার্ক শক্ত না হওয়ার কারণে অনলাইন ক্রয়াদেশ পাওয়ার পরও তা সরবরাহ করতে সমস্যা হয়। এ ছাড়া অনলাইনে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ জটিলতা। বাংলাদেশে অনলাইন নীতিমালা রয়েছে; কিন্তু এখনো অনলাইন আইন নেই।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের ই-কমার্স খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তবে এখনো ব্যাবসায়িক অবকাঠামো কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। দেশীয় কম্পানিগুলো চাইলেও ক্রসবর্ডার ই-কমার্স করতে পারে না। দেশীয় কম্পানিগুলোকে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে হবে। বাংলাদেশেও বহু পণ্য আছে, যেগুলো চীনসহ বিশ্বের অনেক বাজারে চাহিদা আছে। কিন্তু তা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মূল্য পরিশোধ, ডেলিভারির ক্ষেত্রে নানা সমস্যা আছে। এগুলো সরকারকে দূর করতে হবে।’

ফাহিম মাশরুর আরো বলেন, যেসব কারণে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো করে এখনো ই-কমার্সে এগোতে পারিনি তার বড় কারণ হচ্ছে আমাদের ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এখনো শহরকেন্দ্রিক। শহরের বাইরে যেহেতু ব্রডব্যান্ড সুবিধা নেই, সেখানে মোবাইলের মাধ্যমেই সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে। মোবাইলের এখনো ডাটা খরচ অনেক বেশি। ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে এখনো তিন-চার গুণ বেশি। সেই হিসেবে গ্রামের কিংবা মফস্বলের মানুষের জন্য মোবাইলের ডাটা খরচ করে অনলাইনে কোনো কিছু কেনা অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ই-কমার্সের ভবিষ্যতের জন্য এটা একটা বড়ো বাধা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং ডাব্লিউটিও সেলের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ই-কমার্স আমাদের দেশে এখনো নতুন। সারা পৃথিবীতে ই-কমার্স এগিয়ে গেলেও আমাদের দেশে পণ্য ডেলিভারি, পেমেন্ট ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও অর্থায়নসহ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সরকার এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা অনুযায়ী একটি কার্যকরী সেল গঠন করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে কেনাবেচার পথকে আরো প্রশস্ত করতে ট্রাভেল কোটার অনুরূপ ‘ডিজিটাল কমার্স পেমেন্ট’ নামে আলাদা কোটা গঠন করতে হবে।

অনলাইন কেনাকাটা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। মানুষের জীবনধারা বদলে দিচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন দেশের দুই অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র সিনিয়র রিপোর্টার আরিফুর রহমান

‘বাজারের’ ধারণাই বদলে গেছে

নাজনীন আহমেদ

সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, বিআইডিএস

তৌফিকুল ইসলাম খা

চাল-ডাল-সবজি থেকে শুরু করে এসি, ফ্রিজ, বই কী নেই; যেটা এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। কদিন আগে আমার খেজুরের গুড় প্রয়োজন হলো; অনলাইনের মাধ্যমে যশোর থেকে এক দিনের মধ্যেই খেজুরের গুড় আমার বাসায় চলে এসেছে। অথচ কয়েক বছর আগেও খেজুরের গুড় পেতে হলে আমাকে সশরীরে যশোরে যেতে হতো কিংবা কারো সহযোগিতা নিতে হতো। এখন রাত ১২টায় অর্ডার দিই, পরদিন সকালে তা বাসায় চলে আসে। অনলাইনে কেনাবেচা কর্মজীবী নারীদের জীবন সহজ করে দিয়েছে। অনলাইন কেনাবেচা নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। সাধারণত পণ্যের উৎপাদনের সঙ্গে বিক্রির সুযোগ না থাকলে কোনো উদ্যোক্তারই উন্নয়ন হয় না। অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। আমাদের দেশে একসময় পণ্যের বাজারজাত না থাকায় অনেক সম্ভাবনায় উদ্যোক্তা আলোর মুখ দেখেনি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। তবে অনলাইন কেনাকাটায় সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে অনলাইন কেনাকাটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রথমে ফেসবুকের মাধ্যমে, পরে পোর্টাল তৈরি হওয়ায় অনলাইনে কেনাকাটায় মাত্রা বেড়েছে। সঙ্গে ব্যাপ্তিও। প্রথম দিকে বন্ধুবান্ধবদের কাছে কেনাবেচা হতো। পরে পোর্টাল তৈরি হওয়ায় বন্ধুবান্ধবের বাইরে ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। আগে কেনাকাটায় একটা দেয়াল ছিল। এখন তা উন্মুক্ত। আমাজনের মাধ্যমে বইসহ বিদেশি পণ্যও এখন অনলাইনে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে অনলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের দেশে ‘বাজারের’ যে প্রচলিত ধারণা ছিল, সেই বাজারের ধারণাই বদলে গেছে। অনলাইন কেনাবেচায় নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। একটা দল আছে, যারা পণ্যটি শুধু বেচাকেনা করে। আরেকটি দল আছে, যারা পণ্যটি তৈরি করে তা বিক্রি করে। আরেকটি দল তৈরি হয়েছে, যারা পণ্যটি বাসায় পৌঁছে দেয়। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটাকে করের আওতায় আনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমি মনে করি, ধীরে ধীরে অনলাইন কেনাকাটাকে একটা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে।

অনলাইন কেনাকাটা নীতিমালায় আনতে হব

সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সিপিডি

অনলাইন কেনাকাটায় গত কয়েক বছরে আমাদের জীবনধারায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে ফেসবুক ও পোর্টালের মাধ্যমে কেনাকাটা বাড়ছে। বাংলাদেশে দিন দিন অনলাইনে কেনাকাটা জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এখানে কোনো শ্রেণি বিভাজন নেই। কী উচ্চবিত্ত, কী মধ্যবিত্ত, কী নিম্ন-মধ্যবিত্ত—সবাই অনলাইনে কেনাকাটা করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অনলাইন কেনাবেচায় ঝুঁকছে বেশি। মনে রাখতে হবে, আমরা এখন জনসংখ্যার বোনাসকালে আছি। এখন তারুণ্যের আধিক্য। তাই প্রযুক্তি যত বিকশিত হবে, ততই অনলাইন কেনাকাটা জনপ্রিয় হবে। আমাদের নাগরিক ব্যস্ততা বাড়ছে। মানুষ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করার মতো সেই সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনলাইন কেনাকাটা ব্যস্ত নাগরিকদের সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছে। একসময় শহরের মানুষ অনলাইন কেনাকাটার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন গ্রামের মানুষও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে এটিও ঠিক যে অনলাইন কেনাকাটায় অনেকে প্রতারিত হচ্ছে। চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অনেক ক্রেতা পণ্যটি কেনার পর প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা তার পছন্দের পণ্যটি পায় না। পণ্যের মূল্য পরিশোধের পরও অনেক ভোক্তা নির্ধারিত সময়ে পণ্য পায় না। এমন অভিযোগও উঠছে। এতে করে ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটায় এখন কোনো নীতিমালা নেই। এটাকে ধীরে ধীরে একটা কাঠামোতে আনতে হবে। এ খাতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অনলাইন কেনাকাটায় অবশ্যই পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন কেনাকাটায় যত বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, তত দ্রুত এই খাত বিকশিত হবে। আরেকটি জিনিস হলো- অনলাইন কেনাকাটা এখন শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমাদের দেশের গণ্ডির বাইরেও চিন্তা করতে হবে। দেশের বাইরেও পণ্য বিক্রি করতে হবে। আমাজন, আলিবাবার মতো প্রতিষ্ঠান যেভাবে বাংলাদেশে এসেছে, তেমনি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দেশের বাইরে যাওয়ার চিন্তা করতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।

https://www.kalerkantho.com/print-edition/profit-loss/2020/01/15/862727

 380 Views

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
    0
    Your Bag
    Your cart is emptyReturn to Shop
    Scroll to Top