ব্যবসার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পাঁচটি পদক্ষেপ

কথায় আছে, ‘পরিকল্পনা করতে যে ভুল করলো, সে যেন অকৃতকার্য হওয়ার পরিকল্পনাই তৈরি করলো।’ তাই যে কোন কাজ করার আগে একটি ভাল পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সেটি যখন ব্যবসায়ের জন্য করা হয়, তখন তা অবশ্যই হতে হবে নিখুঁত। ব্যবসায় পরিকল্পনা করার সময় যে পাঁচটি বিষয় আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে চলুন জেনে নিই সেসব।

১) পরিকল্পনা লিখিত হতে হবেঃ
ব্যবসায়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে মৌখিক কোন পরিকল্পনা বা চুক্তির মূল্য নেই। পরিকল্পনা অবশ্যই লিখিত হতে হবে। উদ্যোক্তাদের মাথায় প্রতিদিনই কোন না কোন পরিকল্পনা আসে। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক তা লিখে ফেলতে হবে। পরিকল্পনা লিখিত হওয়ার জন্যে নিচের এই তিনটি কারণ যথেষ্ট।

  • কয়েকটি পরিকল্পনার সাথে তুলনা করা।
  • ব্যাংক ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করা।
  • বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা।

২) ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকতে হবেঃ
মনে রাখতে হবে, শুধু পণ্য বিক্রি করাটাকেই ব্যবসা বলে না। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য সহজ সরল ও পরিষ্কার- মুনাফা অর্জন। আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল ইঁদুর ধরার কল বানাতে পারেন, যার দাম ঠিক করলেন ৫০০ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা শুধু ২০০ টাকা দিতে রাজি। এইভাবে ব্যবসা করার কোন যুক্তি নেই। যখন আপনার মনে হবে এই দামটা যুক্তিযুক্ত এবং এটির মাধ্যমে আপনার মুনাফা করার সুযোগ আছে কেবল তখনই সামনে এগোবেন।

৩) প্রচুর গবেষণা করতে হবেঃ
আপনার ব্যবসায় পরিকল্পনা তখনই সফল হবে যখন আপনি এর সাথে গবেষণা যোগ করবেন। “এই ব্যবসায় পরিকল্পনাটা কি কাজ করবে?” এই প্রশ্নটা যখন মাথায় আসবে তখনই উপযুক্ত সময় বাজার গবেষণা করে এর উত্তর খুঁজে নেয়ার। গবেষণা করে আরো যে সকল উত্তর খুঁজে নিতে পারেন।

  • এই ব্যবসায়ের ইতিহাস কেমন?
  • বাজারে এ পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান গুলোর কি অবস্থা?
  • ভোক্তাদের চাহিদা কেমন?
  • সারা বছরই কি এর চাহিদা থাকে?

প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেলে বুঝতে হবে এবার আপনি ব্যবসা শুরু করতে প্রস্তুত।

৪) পরীক্ষামূলক বাজারে প্রবেশঃ
‘আপনি’ এবং ‘আপনি কি করতে চাইছেন’ এটি ব্যবসায় পরিকল্পনা সমীকরণের অর্ধেকটা মাত্র। বাজার ভিন্ন একটি জিনিস। বই পড়ে পড়ে যতই আপনি সাঁতারের সব পরিকল্পনা করেন না কেন, পানিতে নামলে স্রোত দেখে তারপর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটি আগেও বলা হয়েছে, আপনি যদি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল পণ্যটি তৈরি করে বসে থাকেন, কিন্তু ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা না থাকলে এটির কোনই মূল্য নেই।
তাই ব্যবসায় পুরোপুরি শুরু করার আগে আপনার পণ্যটি পরীক্ষামূলক ভাবে বাজারে ছেড়ে দেখতে পারেন। এরপর বিক্রয় কর্মীর থেকে গ্রাহকদের মতামত জেনে নিন।

৫) আর্থিক পরিকল্পনা নিখুঁত রাখতে হবেঃ
ব্যবসায়ের একদম শুরু থেকেই যথাযথ ভাবে সব হিসাব সংরক্ষণ করুন। আপনাকে সবসময় নিচের তিনটি আর্থিক বিবরণী চোখের সামনে রাখতে হবে।

  • Income Statement
  • Cash flow projection
  • Balance Sheet

আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা প্রায়ই দুইটি ভুল করে থাকেন। প্রথমত, তারা খরচের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। ভাবনাটা এমন থাকে প্রথম প্রথম পণ্য বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে খরচ তো হবেই। এতে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়েও অধিক খরচ হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, লাভের ক্ষেত্রে এরা অনেক বেশি পরিমাণ আশাবাদী হয়ে থাকে। এটা ঠিক যে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা ভাল। তবে আপনাকে মুদ্রার অপর পিঠের চিত্রটাও মনে রাখতে হবে। মুনাফা তো হবেই-এই চিন্তাটা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মনে রাখতে হবে, অধ্যবসায় আর সংকল্প কোন কাজে সফলতার চূড়ান্ত চাবিকাঠি। আর তার সাথে যদি যোগ হয় একটি ভাল পরিকল্পনা, সফলতা তাহলে কিন্তু খুব বেশি দূরে নয়। তাই আপনার ব্যবসায়ের জন্যে একটি নির্ভুল পরিকল্পনা তৈরি করুন।

তথ্যসূত্র : পরামর্শ.কম

 203 Views

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
    0
    Your Bag
    Your cart is emptyReturn to Shop
    Scroll to Top